“আমি বিধায়ক হলে মানুষদের বলতাম, সব সমস্যার সমাধান করতে পারব না” “অপ’শব্দ ও সাম্প্রদা’য়িকতাকে বিজেপি অ’স্ত্রে পরিণত করেছে” বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষিতে, রাজ্য-রাজনীতি নিয়ে সাফ কথা অভিনেতা কৌশিক সেনের!

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভোটের আগে অভিনেতা কৌশিক সেনের ভাবনা অনেককেই নতুন দিশা দেখাচ্ছে। সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমের সাথে এক আলাপচারিতায় কৌশিক রাজনীতি ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার উপর নিজের মতামত ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, একজন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁকে দেখতে চান, যিনি রাজ্যের মানুষদের জন্য স্বচ্ছ এবং দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন তৈরি করতে পারেন। তাঁর মতে, নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সময় দলের চেয়ে প্রার্থীই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য কঠোর পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তিনি।

অভিনেতা বিশ্বাস করেন যে, নাগরিকদের প্রার্থীদের যাচাই করার অধিকার থাকা উচিত, ঠিক যেমন ভোটারদের বৈধতা যাচাই করা হয়। নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে কৌশিক আরও বলেন, যদি তিনি বিধায়ক হতেন, তবে এলাকার সমস্যা সমাধানে প্রথম পাঁচ বছরে দুটো গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করতেন। তাঁর মতে, নাগরিকদের কাছে এই বার্তা পৌঁছানো প্রয়োজন যে, একজন বিধায়ক সব সমস্যার একসঙ্গে সমাধান করতে পারবেন না, তবে চেষ্টা করতে হবে সমস্যাগুলোর প্রাথমিক সমাধান করতে।

তার পাশাপাশি, রাজনীতিতে অপশব্দ বা ঘৃণামূলক বক্তব্যের প্রয়োগ তিনি একেবারেই অগ্রহণযোগ্য মনে করেন। কৌশিকের মতে, সাম্প্রদায়িক মন্তব্য করা আরও ক্ষতিকর এবং এটি একটি রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, বিশেষ করে বিজেপির পক্ষ থেকে। দুর্নীতি ও দলবদলের প্রসঙ্গে কৌশিকের মতামতও স্পষ্ট। তিনি বলেন, কোনও দলই এখন পর্যন্ত পূর্ণরূপে দুর্নীতিমুক্ত নয় এবং তাই রাজনীতিতে শুদ্ধতা আনতে সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে নির্বাচন হওয়ার পরামর্শ দেন।

কৌশিকের মতে, নিয়ম থাকা উচিত, যেখানে দলবদল করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তাঁর পদ হারাবেন এবং তারপর অন্য দলে যোগ দিতে পারবেন। দলবদল বা ‘পদবিনিময়’ রাজনীতির জন্য ভালো নয়, এটি গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এছাড়া, নির্বাচনী প্রচারে তারকাদের ভূমিকা নিয়ে কৌশিক বলেন, ভোট টানার জন্য তারকা ব্যবহার করা এখন আর এমন সহজ কাজ নয়। আগে হয়তো এটি কার্যকরী ছিল, কিন্তু এখন মানুষের কাছে তারকারা আর ততটা বিশ্বাসযোগ্য নন। কৌশিকের মতে, রাজনীতিতে তারকার ভূমিকা ক্রমশ কমছে এবং ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি হারাচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ “ছেলের জন্য এই লড়াই তোমাকেই জিততেই হবে” স্ক্রিপ্ট হাতে বিষণ্ণ চেহারার ছবি ভাইরাল, সহজের লড়াকু মা’কে সাহস জোগাল নেটপাড়া! স্বামী রাহুলের অকাল মৃ’ত্যু, একা হাতে পরিবার এবং সন্তানের দায়িত্ব সামলিয়ে পেশাদারিত্বের দৃষ্টান্ত স্থাপন প্রিয়াঙ্কা সরকারের!

তাই তিনি মনে করেন, একটি রাজনৈতিক দল বা প্রার্থীকে শুধুমাত্র তারকা হওয়া নয়, তার মূল উদ্দেশ্য ও কর্মপ্রণালীর ওপরই বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। সবশেষে, কৌশিক তাঁর প্রিয় রাজনীতিবিদ সম্পর্কে জানান। তিনি বলেন, তাঁর পছন্দের রাজনীতিবিদ হলেন কমরেড শিশির সেন, যিনি কখনও নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেননি, তবে তিনি স্পষ্টভাবে বামপন্থী এবং সিপিএমের রাজ্য কমিটির সদস্য ছিলেন। কৌশিকের মতে, শিশির সেনের মতামত এবং কাজের ধারা তাঁকে মুগ্ধ করেছে, যদিও তিনি রাজনীতির মাঠে আসেননি।

You cannot copy content of this page